Showing posts with label Article. Show all posts
Showing posts with label Article. Show all posts

Friday, September 23, 2011

 হ্যাকারের দশ উত্তর


কম্পিউটার বিজ্ঞানে বিস্তর জ্ঞান এই ভদ্রলোকের। কম্পিউটার কৌশল এবং নেটওয়ার্ক বিদ্যা তাঁর জানাশোনার মূল জায়গা। নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা নিয়ে তাঁর লেখা খান দুয়েক বই, দুনিয়াজুড়েই বহুল পঠিত। অথচ ডেভিড মিটনিক দুনিয়াখ্যাত হয়েছেন হ্যাকার হিসেবে। সর্বজন পরিচিত এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তাও এসেছে অন্যের কম্পিউটারে বা নেটওয়ার্কে লুকানো কিংবা সংগ্রহে থাকা তথ্যভান্ডার গায়েব অথবা ওলট-পালট করে দেওয়ার কারণেই! বেশ কয়েকবার অপরাধী সাব্যস্তও হয়েছেন, পুলিশি ঝামেলাও হয়েছে। তার পরও অনেকেই তাঁর নামের আগে বিশেষণ হিসেবে কুখ্যাত না লিখে বিখ্যাত হ্যাকারই লেখেন। যেবার মিটনিক পুলিশের হাতে ধরা পড়েন, সেবার তিনিই ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের কম্পিউটার-সংশ্লিষ্ট অপরাধের হিসাবে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’! 
মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’ মাধ্যম ব্যবহার করে বিনা ভাড়ায় বাসে ভ্রমণ করতে পাঞ্চকার্ড পদ্ধতিকে পাশ কাটিয়ে পুরো লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের বাস সার্ভিস ওলট-পালট করে ফেলেছিলেন এই হ্যাকার। এরপর মটোরোলা, নকিয়া, ফুজিৎসুর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের কম্পিউটার নিরাপত্তা পদ্ধতি ওলট-পালট করে দিয়ে নাম উঠিয়েছেন অপরাধীর তালিকায়। এর বাইরেও তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ অনেক। যার কিছু এরই মধ্যে প্রমাণিত, আবার কিছু প্রমাণের অপেক্ষায়। ইতিমধ্যেই বিভিন্ন মেয়াদে সাজাও খেটেছেন মিটনিক। এই হ্যাকারের পাঁচ বছরের জেলজীবন এবং দীর্ঘ হ্যাকারজীবন নিয়ে প্রশ্ন করেছে টাইম সাময়িকী। জানতে চেয়েছে হ্যাকিংয়ের আদ্যোপান্ত। আর উত্তর দিয়েছেন ডেভিড মিটনিক।

আপনি কি নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত বেস্ট-সেলার বইয়ের তালিকাটি হ্যাক করে সেখানে আপনার লেখা তারের ভেতর ভূত বইটির র‌্যাংকিং অবস্থান পরিবর্তন করতে পারবেন?
সম্ভবত! এখন অনেক প্রতিষ্ঠানই তাদের নিরাপত্তা ঠিকঠাক আছে কি না তা দেখার জন্য আমাকে ভাড়া করে। দেখতে চায়, আমি তাদের প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা ভেঙে ভেতরে ঢুকতে পারি কি না। আমি জানি না, নিউইয়র্ক টাইমস-এর বেলায় আমি বিষয়টিকে কীভাবে নেব। তবে হয়তো সম্ভব! ওহ্ হ্যাঁ, আমি কেবল দায়িত্ব পেলেই (প্রতিষ্ঠানটির অনুমোদনের পরই) কাজটি করব।
আপনার প্রথম অপরাধ ছিল, বাস চলাচলের সিস্টেম পরিবর্তন করে ফেলা। আপনি কি মনে করেন, ওই সময় অর্থাৎ শুরুতেই যদি আপনাকে কেউ এ কাজ থেকে দূরে সরিয়ে দিত তাহলে আপনার জীবনটা অন্য রকম হতে পারত?
আমার হাইস্কুল জীবনেই ব্যাপারটার (হ্যাকিং) শুরু। কম্পিউটার ক্লাসে আমাদের প্রথম কাজ হিসেবে দেওয়া হয় এমন একটা প্রোগ্রাম লেখার, যার মাধ্যমে প্রথম ১০০ ফিবোনাক্কি সংখ্যা প্রিন্ট করা যাবে। অথচ এর বদলে আমি এমন একটি প্রোগ্রাম লিখি, যা কিনা যেকোনো ছাত্রের পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারবে! তবে যা-ই বলুন, ওই ক্লাসে আমার কম্পিউটার শিক্ষক আমাকে কাজটির জন্য ‘এ’ নম্বর দিয়েছিলেন!
দুর্বল কোডিং প্রতিভা নাকি অতিমাত্রায় সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং—কোনটা আপনাকে ভালো হ্যাকার বানিয়েছে? 
যাদের হাতে কম্পিউটার আছে এবং সেটা দিয়ে কিছু করার সুযোগও আছে, সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আসলে সেই মানুষগুলোকে প্রবঞ্চনা, লোভ, উদ্ভাবনী শক্তি দিয়ে প্রলুব্ধ করে। যেমন ধরুন, এমন কেউ একটি ই-মেইল পেল, যেখানে লেখা অ্যাটাচমেন্টটা ‘ক্লিক’ করো। জানেন কি, বেশির ভাগ কম্পিউটার (ব্যবহারকারী) ওই প্রতারণার সঙ্গে আপ করে এবং ওই প্রবঞ্চনায় সায় দেয়! একই সঙ্গে বরং অর্থাৎ একজন হ্যাকার বা আক্রমণকারীকে তার ওয়ার্কস্টেশনে ঢোকার সুযোগ তৈরি করে দেয়। এরপর ওই হ্যাকারকে ঠেকানো সত্যিই দুষ্কর!
সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং কি হ্যাকিংয়ের ব্যাপারটিতে কোনো পরিবর্তন এনেছে?
আসলে ব্যাপারটাকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। যেমন, আমি এখন লিংকড-ইনে ঢুকে প্রথমে নেটওয়ার্ক প্রকৌশলীদের খুঁজে বের করতে পারি এবং সেখান থেকেই আমি আমার টার্গেটগুলোকে (টোপ গিলবে এমন টার্গেট) বাছাই করে আবার ফিরে আসতে পারি। কেননা ওই নেটওয়ার্কগুলোর প্রকৌশলীদের কাছেই নেটওয়ার্কের পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা আছে। সে ক্ষেত্রে ওই প্রকৌশলীদের নেটওয়ার্কে টার্গেট করার মতো কাউকে তো পাওয়া যায়ই। এরপর একইভাবে আমি টুইটার কিংবা ফেসবুকে গিয়ে চাতুরী করে ব্যবহারকারীদের দিয়ে কিছু একটা করানোর চেষ্টা করতে পারি এবং সে সুযোগ আমার আছে। ধরুন, যদি কোনোভাবে আমি জানতে পারি যে আপনি উট পাখি পছন্দ করেন, তাহলে এমন হতে পারে যে আমি আপনাকে এমন একটা ই-মেইল পাঠাব, যেখানে উট পাখি সম্পর্কে বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে। অথবা নতুন কোনো অফার থাকবে; থাকবে নতুন অনেক তথ্য। আর ওতে প্রলুব্ধ হয়ে কেউ যখনই এটা ডাউনলোড করবে, আমি তার নেটওয়ার্ক বা ফোনে ঢুকে পড়ার সুযোগ পেয়ে যাব!
সে ক্ষেত্রে কোনো তারকার ফোন হ্যাক করা একজন ট্যাবলয়েড রিপোর্টারের জন্য বিষয়টা কতটা সহজ?
এটা আমাকে সত্যিই ইতস্তত করে। বেশির ভাগ সেলফোন সংযোগদাতা তাদের গ্রাহকদের ভয়েস কলের জন্য গোপন নিরাপত্তা নম্বর বা পিন হিসেবে ১১১১ বা ১২৩৪ দিয়ে দেয় (ডিফল্ট)। কোনো হ্যাকারের জন্য যা মোটেও নতুন নয়।
তাহলে পারফেক্ট পিন কোনটা?
পারফেক্ট পিন কখনো চার সংখ্যার হবে না। শুধু তাই নয়, বরং ওটা এমন একটা পিন হবে, যেটা আপনার জীবনের সঙ্গে কোনোভাবেই সম্পর্কযুক্ত নয়। যেমন, কখনো সেটা আপনার আগের টেলিফোন নম্বরটি হবে না। পিনটা হতে হবে এমন একটা নম্বর, যেটা আপনার জন্য মনে রাখা সহজ অথচ অন্যের জন্য ধারণা করাও কঠিন।
জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ কিংবা উইকিলিকস সম্পর্কে আপনার ধারণা কী?
এটার দায় আসলে ব্র্যাডলি ম্যানিংয়ের (ইরাকে কর্মরত অবস্থায় এই মার্কিন সেনা উইকিলিকসকে তথ্য দেওয়ার জন্য গ্রেপ্তার হন) মতো লোকগুলোর। তা ছাড়া মার্কিন গোপন ব্যবস্থা থেকে দেশের জন্য অতি গোপনীয় তথ্য ‘সিক্রেট ইন্টারনেট প্রটোকল রাউটার নেটওয়ার্ক’ সিডিতে ঢেলে রাখার জন্যও তো লোক নিয়োগ করা আছে। উইকিলিকসের ব্যাপারটা আমার দেখা ও জানা মার্কিন সরকারের নিরাপত্তাব্যবস্থার সবচেয়ে বড় ত্রুটি ও ব্যর্থতা।
আপনার কোন হ্যাকিং নিয়ে আপনি গর্ব করেন?
যখন আমি প্যাক বেল সেলুলার হ্যাক করেছিলাম, ওটাই সেরা। ওটার মাধ্যমেই আমি এফবিআইয়ের এক এজেন্টের কর্মকাণ্ড খেয়াল করছিলাম। ওই এজেন্টই আবার আমাকে খুঁজছিল; প্যাক বেল হ্যাক করেছি বলে নয়, বরং কীভাবে কাজটা হয় সেটা জানতে!
মানির র‌্যাংকিং ব্যবহার করে আপনি বসবাসের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ১০ শহরের খোঁজ করছিলেন, লুকানোর জন্য! এফবিআই ওটা খেয়াল করেনি?
না, আমি শুধু মানিকে আমার পছন্দগুলোর সম্ভাব্যতাটুকুই যাচাই করে দেখতে অনুমতি দিয়েছিলাম। তবে সে ক্ষেত্রে যদি আমার কোনো নির্দিষ্ট পছন্দ থাকত এবং তা মানিকে জানাতাম, তাহলে হয়তো ওরা আমাকে খুঁজে বের করতে পারত।
জেলখানায় পাঁচ বছর কেটে গেল। জেলে আপনাদের (হ্যাকারদের) সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়?
খুব ভালো! এক কলম্বিয়ান মাদক পাচারকারী আমাকে ৫০ লাখ ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল জেলের নেটওয়ার্ক (ব্যুরো অব প্রিজন নেটওয়ার্ক) হ্যাক করে তার ছাড়া পাওয়ার তারিখটা এগিয়ে দিতে! আমি বলেছিলাম, চলো বিষয়টা নিয়ে আলোচনা করি!

স্বপ্নদ্বীপ ভোলাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন

নেয়ামত উল্যাহ | তারিখ: ২২-০৯-২০১১

স্বপ্নদ্বীপ ভোলা। দুর্গম দ্বীপ। চারপাশে জল আর জল। এ দ্বীপকে, একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ জেলাকে রক্ষা করতে ভোলাবাসী আন্দোলনে নেমেছে। আমাদের সরকারের উচিত, জেলাটিকে রক্ষা করা—আমাদের স্বপ্নকে রক্ষা করা। শুধু টাকা দিয়ে রক্ষা করলেই চলবে না; নিজে দাঁড়িয়ে থেকে রক্ষা করা যাকে বলে, সেভাবেই রক্ষা করা উচিত। কারণ ভোলার সাধারণ মানুষ, ভোলা শেষ হয়ে গেলে যাদের আর যাওয়ার কোনো স্থান নেই, তারা এবং যারা ভোলাকে ভালোবাসেন, তাঁরাই আন্দোলন করছেন মেঘনা-তেঁতুলিয়া-বুড়া গৌরাঙ্গ নদীর আগ্রাসী ছোবল থেকে রক্ষার জন্য। ভাঙন প্রতিরোধে যৎসামান্য কাজ যে হচ্ছে না তা নয়, হচ্ছে—কিন্তু তা হচ্ছে ক্ষমতাসীন একটি পক্ষকে লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। যেন লুটেরারা ভোলার বাইরের বড় শহরে একাধিক বাড়ি গড়তে পারে, ব্যাংক ব্যালান্স ও ব্যবসাপাতি গড়তে পারেন। ভোলাকে রক্ষার নামে নিজেদের আখের গোছাচ্ছেন, যারা নিজেদের ক্ষমতাসীন নেতাদের আত্মীয় মনে করেন; যাঁরা মুহূর্তেই ভোলার ভুখা-নাঙ্গাদের স্বপ্ন মুহূর্তেই ধ্বংস করতে পারেন।
১২ নভেম্বর ১৯৭০ সাল। ভয়ংকর জলোচ্ছ্বাস ভোলার দেড় লাখ মানুষের জীবনসহ কোটি কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস করেছে। ওই জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের করুণ চিত্র বঙ্গবন্ধু স্বচক্ষে দেখেছেন। আর তাই স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ভোলার চারপাশে ২৫০ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ করেছেন। ভোলা ছিল এক ফসলি। এখন তিন ফসলি। ভোলায় প্রতিবছর শত শত মেট্রিক টন খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকে। ওই ধান জেলার বাইরে যায়। ভোলায় ৬৫ হাজার থেকে ৭০ হাজার পুকুর আছে। আছে নদী, খাল ও উন্মুক্ত জলাশয়। এসব জলাশয়ে সঠিকভাবে মৎস্য চাষ ও রক্ষণাবেক্ষণ করলে দেশের এক-তৃতীয়াংশ মৎস্য আমিষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। ভোলায় প্রায় ১০ লক্ষাধিক গবাদিপশু আছে। প্রতিদিন কমপক্ষে ১০ ট্রাক গরু-মহিষ ভোলার বাইরে যায়। ভোলা হতে পারে দেশের সবচেয়ে বড় দুগ্ধ খামার ও মাংস উৎপাদনের এলাকা। ভোলায় আছে গ্যাসের বিপুল মজুদ। স্থানীয় ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ভোলায় আরও গ্যাস আছে। এ জন্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা দরকার। গ্যাসকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠছে শিল্প-কারখানা। গুরুত্বপূর্ণ জোনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনায় ভোলার জমির মূল্য বেড়েছে কয়েক গুণ। ১ শতাংশ জমির মূল্য ১০ হাজার টাকা থেকে দুই লাখ হয়েছে। একসময় ভোলায় টিনশেড বিল্ডিং ছাড়া তেমন কোনো বিল্ডিং ছিল না। এখন ১০-১৫ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হচ্ছে শপিং মল।
ভোলাবাসী বড়ই হতভাগা। আমাদের পুরোনো কিছু বেঁচে থাকে না। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে মনপুরা গিয়ে মুগ্ধ হয়েছেন। যেখানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর শক্ত পা পড়েনি, সে পবিত্র স্থানে বঙ্গবন্ধু পা দিয়েই বুঝেছেন, এটা শান্তির স্বপ্নদ্বীপ। তিনি সেখানে একটি চিন্তানিবাস আর মনপুরাকে পর্যটন এলাকা হিসেবে নির্মাণ করতে আশা করেছিলেন। এ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে মনপুরায় ইট-বালু-রড পৌঁছেছিল। কিন্তু স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়নি। যে জমি চিন্তানিবাসের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে, সেটিও মেঘনায় অনেক আগে বিলুপ্ত করেছে। ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরা এ স্বপ্নদ্বীপ আজও অবহেলিত। হয়নি পর্যটনকেন্দ্র। এমনই করে আমাদের পুরোনো স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দির, বাড়ি ও বাড়ির নকশা করা ঘর আজ মেঘনায় বিলীন। অথচ ভোলা হতে পারে পৃথিবীর সেরা পর্যটনকেন্দ্র। কারণ, এর চারপাশে জল আর জলাশয়। ওপরে নীল আকাশ। নির্মল বায়ু, যানজট ও ধোঁয়ামুক্ত।
ভোলার প্রতিটি বাড়ি একান্নবর্তী। চারপাশে ঘর, মাঝে মস্ত উঠান, একটি লম্বা দরজা, দরজায় কাছারি। আর ঘরগুলোর পেছন থেকে বাগানের শুরু। ঘরের দাওয়ায় ফল-সবজি-লতাগাছ। এসব বাড়ির নাম হাওলাদার বাড়ি, গোলদার বাড়ি, তালুকদার বাড়ি, ফরাজি বাড়ি...কত নাম! এদের মাঠ ভরা ধান, পুকুর ভরা মাছ, গোয়াল ভরা গরু, বাথান ভরা মহিষ আর বাড়ির খোপভর্তি কবুতর-হাঁস-মুরগি। কোনো কিছুতে কোনো কমতি নেই। শিক্ষা ও ঐতিহ্যেও এরা সমাজের মাথা। মেঘনা-তেঁতুলিয়া মুহূর্তে আমাদের এসব ঐতিহ্য, আচার-আচরণ, কালচার, বংশমর্যাদা নদীর পানিতে মিশিয়ে দেয়—ভেঙে দেয় স্বপ্ন। নষ্ট করে পারিবারিক ঐতিহ্য। যেন বর্গিরা সবকিছু লুট করে নিয়ে গেছে। ভাঙে একান্নবর্তী পরিবার।
ভোলার চারদিকে নদী, মেঘনা-তেঁতুলিয়া-ইলিশা আর বুড়া গৌরাঙ্গ। চারদিক থেকে গ্রাস করছে। এ নদীকে শাসন করতে অনেক গবেষণা হয়েছে। কিন্তু কিছু সুবিধাভোগী বারবার নদীকে শাসনের পরিবর্তে নদীকে শোষণ করেছে। কারণ, এদের প্রত্যেকের ভোলা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বাড়ি আছে। এরা সৃষ্টির শুরু থেকে সুবিধাভোগী। আমরা কষ্টের সময় ও বিপদে এদের সাহচর্যে যাই—এরা সে সুযোগে উপকারের পরিবর্তে ব্যবসা শুরু করে। এ কারণে সরকারের নদীভাঙন প্রতিরোধ বিফলে যাচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড কোটি কোটি টাকার ব্লক ফেলছে, ঠিকাদার ও পাউবো সেটির পূর্ণ সদ্ব্যবহার না করে চুরি করছে। কাগজে-কলমে ব্লকের প্রস্থ ২৮ মিটার। কিন্তু বাস্তবে ১০-১৮ মিটার। ব্লকের মান এমন যে লাথি দিলে ভেঙে গুঁড়ো গুঁড়ো হয়ে যায়। ব্লক তৈরি হয়েছে, কিন্তু সঠিকভাবে বসানো হয়নি। জনগণের প্রশ্ন, ঠিকাদার যতই দুর্নীতির আশ্রয়ে যায়, কর্তৃপক্ষ আরও দুর্নীতির সুযোগ করে দেয় পকেট ভরার খাতিরে। আমাদের নেতারা এগুলো দেখেন, শোনেন, বোঝেন, কিন্তু রঙিন চশমা চোখে দিয়ে ঘোরেন।
ভাঙতে ভাঙতে দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেছে ভোলাবাসীর। প্রতিদিন শত শত পরিবার উদ্বাস্তু হচ্ছে। ভোলার বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা এলাকার ৫০ কিলোমিটার ভাঙনকবলিত। এটুকু একসঙ্গে ব্লক ফেললেই ভোলার ভাঙন রক্ষা করা সম্ভব। কিন্তু ওই ৫০ কিলোমিটারে ব্লক না ফেলে দুই-এক কিলোমিটার করে ব্লক ফেলা হচ্ছে। এ কারণে প্রতিদিন শত শত একর ফসলি জমি-বাড়ি-ঘর নদীতে বিলীন হচ্ছে। ভোলা রক্ষা করতে আন্দোলনে নেমেছে ভোলাবাসী। তাদের বক্তব্য হচ্ছে, যত দিন ভোলা রক্ষা না হবে, তত দিন আন্দোলন চলবে।
ভোলাবাসীর আন্দোলনে আসলে সারা দেশের মানুষেরই সমর্থন থাকা প্রয়োজন। ভোলা এখন আর শুধু মহিষ, বাথান আর রাখালের দেশ নয়; এখন ভোলা একটি গুরুত্বপূর্ণ নগর। কারণ ভোলা দেশের বৃহত্তর ধান-পান-সুপারি উৎপাদনকারী জেলা, ভোলা ইলিশসহ বৃহত্তর মৎস্য উৎপাদনকারী জেলা, ভোলায় শাহবাজপুর গ্যাসক্ষেত্র। এখানে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্ল্যান্ট বসছে। ভবিষ্যতে ভোলা হবে শিল্পনগর। একসময় দোতলা-দেড়তলা টিনের ঘর ছিল। এখন সেখানে পাঁচতলা-১০ তলা শপিং মল নির্মাণ করা হচ্ছে। ভোলা সম্পদশালী। একে রক্ষা করা ভোলার প্রতিটি মানুষের দায়িত্ব, দেশের সরকারের দায়িত্ব। আমাদের অনুরোধ, এ স্বপ্নদ্বীপকে বাঁচাতে সরকার যেন একটু এগিয়ে আসে।